হেইডি এসকিউয়েল (HeidiSQL) ডেটাবেস ডিজাইন টুল, Ctghostbd.com

HeidiSQL বা হেডিএসকিউয়েল একটি চমৎকার টুল ডেটাবেস ডিজাইনের জন্য। খুব হালকা, দ্রুত কাজ করা যায় এবং ডেটাবেস ম্যানেজ করতে যেসকল কাজ করতে হয় প্রায় সবই এটা দিয়ে করা যায়।

প্রথমে http://www.heidisql.com/download.php এখান থেকে টুলটি ডাউনলোড করে নিন এবং সাধারন সফওয়্যারের মত ইনস্টল দিন। ইনস্টল দিয়ে প্রোগ্রামটি চালু করুন নিচের মত প্রথমবার একটা উইন্ডো আসবে

হেডিএসকিউয়েল প্রথম উইন্ডো

প্রথমেই বামে “New” বাটনে ক্লিক করুন এবং সেশনটির একটি নাম দিন যেমন আমি দিয়েছি “localhost”. ডানদিকে “Network Type” ড্রপডাউন থেকে কোন ডেটাবেসে কাজ করতে চান সেটা ঠিক করুন। বাই ডিফল্ট মাইএসকিউয়েল ই থাকে।

এরপ “Hostname/IP” এর জায়গায় যে সার্ভারের ডেটাবেস একসেস করতে চাচ্ছেন সেটাই আইপি দিন। আমি যেহেতু লোকালি দেখাচ্ছি তাই আইপি 127.0.01 দেখাচ্ছে। এটাই বাই ডিফল্ট থাকে। “User” এবং “Password” এ বাই ডিফল্ট যা আছে তাই চলবে কেননা বাই ডিফল্ট ইউজারের নাম “root” থাকে এবং পাসওয়ার্ড থাকেনা (বা ফাকা থাকে)। এবার “Open” বাটনে ক্লিক করুন নিচের মত সব ডেটাবেসগুলি দেখাবে

সব ডেটাবেস তালিকা

এখন এই উইন্ডো থেকে যেকোন কাজ করতে পারবেন যেমন একটি নতুন ডেটাবেস তৈরী এবং সেটাতে টেবিল তৈরী, একটা ডেটাবেস মুছে দেয়া, যেকোন ডেটাবস সম্পাদনা করা ইত্যাদি।

** হেডিএসকিউয়েল দিয়ে লাইভ কিংবা লোকাল ডেটাবেস দুটোতেই কাজ করতে পারবেন। এমনকি মাইএসকিউয়েল ছাড়াও MSSQL, PgSQL ইত্যাদি ডেটাবেসে কাজ করা যায়। আমি এখানে  মাইএসকিউয়েল এ কিভাবে একটা ডেটাবেস ডিজাইন করা যায় সেটা দেখাচ্ছি। 

একটি নতুন ডেটাবেস তৈরী

SQL দিয়ে নতুন ডেটাবেস তৈরী করা অনেক সময়ের ব্যাপার, কোড লিখে কাজ করাটাও ঝামেলার। তবে হেডিএসকিউয়েলে একটি নতুন ডেটাবেস তৈরী করতে মাত্র কয়েকটি ক্লিক দরকার। 

যে নামে সেশনটি তৈরী করেছিলেন (আমি করেছিলাম localhost নামে) সেটার উপর রাইট বাটন ক্লিক করলেই উপরের মত মেনু আসবে। এবার এই মেনু থেকে “Create new -> Database” দিলেই নিচের উইন্ডোটি দেখতে পারবেন। ডেটাবেসের নাম এবং কোলাশন (ডেটাবেসটি ইউনিকোড হবে নাকি অন্য কোন ফরেমেটে হবে সেটা কোলাশন দিয়ে ঠিক করতে হয়) কি দিবেন সেটা চাইবে

ডেটাবেস নাম এবং কোলাশন সেট

এখানে ডেটাবেসটির একটি নাম দিন যেমন আমি দিয়েছি “webcoachbd” আর Collation থেকে “utf8_general_ci” সিলেক্ট করুন তাহলে সব ভাষার অক্ষর ডেটাবেসে ঢুকানো যাবে (মানে ইউনিকোড সাপোর্টেড)। এবার Ok দিলেই ডেটাবেসটি তৈরী হয়ে গেল।

টেবিল তৈরী

এবার “webcoachbd” ডেটাবেসে একটি নতুন টেবিল তৈরী করতে ডেটাবেসটির উপর রাইট বাটন ক্লিক করে “Create new -> Table” দিন ব্যাস টেবলি তৈরীর উইন্ডো চলে আসবে। এই উইন্ডোতে এখন বাই ডিফল্ট “Basic” ট্যাবটি খোলা পাবেন। এই ট্যাবের একটু নিচে টেবিলটির নাম দেয়ার জন্য ফিল্ড আছে সেখানে টেবিলের নাম দিন যেমন আমি দিয়েছি “users”. নাম দেয়ার পর টেবিলে কমপক্ষে একটি কলাম/ফিল্ড তৈরী করলেই টেবিলটি সেভ করতে পারবেন। যেমন নিচে দেখুন আমি users টেবিলে একটি কলাম/ফিল্ড তৈরী করেছি নাম “id”

কলাম যোগ করতে  “Add” বাটনটিতে ক্লিক করেলই একটি কলাম যোগ হয়। এবার চাইলে নতুন কলামটিতে যেকোন ইনডেক্স দিতে পারেন। উপরে দেখুন আমি কলামটির উপর রাইট বাটন ক্লিক করে “Create new index” থেকে কিভাবে “id” কলামটি “প্রাইমারি কি” করে দিয়েছি।  যেহেতু আগেই করেছি তাই “PRIMARY” লেখাটি নিস্ক্রিয় দেখাচ্ছে। 

যেকোন কলামের ডেটা টাইপ বদলাতে কলামের নামের ডানের ফিল্ডের উপর ক্লিক করুন নিচের মত সব ডেটাটাইপ ড্রপডাউনে আসবে।

ডেটা টাইপ সেট

এরপর ডেটা টাইপ টি সিলেক্ট করে দিন।

প্রতিটি কলামের শেষে দেখুন নিচের মত “Default” ফিল্ড আছে এখান থেকে কলামে কোন ডিফল্ট মান ঢুকবে কিনা সেটা ঠিক করতে পারেন। আবার ইচ্ছে করলে অটো ইনক্রিমেন্ট (নতুন সারি ঢুকলেই অটোমেটিক এখানে নাম্বারিং বাড়বে) মান সেট করতে পারেন নিচের মত

অটো ইনক্রিমেন্ট মান সেট

** কোন কলাম আগে পিছে (উপরে নিচে) করতে চাইলে কোড লিখে SQL দিয়ে এটা করা খুব ঝামেলার। HeidiSQL এ এটা অত্যন্ত সহজ। কলামটি সিলেক্ট করুন এরপর উপরে bar এ “UP” এবং “Down” বাটনে ক্লিক করে যেকোন কলামকে যেকোন কলামের উপরে নিচে সরিয়ে নিতে পারেন। উপরের ছবিতে দেখুন একটাই কলাম আছে তাই “Down” বাটনটি নিস্ক্রিয় দেখাচ্ছে, যদি একাধিক কলাম থাকত তাহেল এই বাটনে ক্লিক করে কলামটি নিচে আনা যেত। 

** উপরের ছবিতে “Create code” ট্যাবটি দেখতে পাচ্ছেন? ওখানে ক্লিক করে দেখুন টেবিলটির তৈরীর SQL কোড অটোমেটিক তৈরী হয়ে আছে।

** যেকোন ডেটাবেসে কোন কোয়েরি করা দরকার? তাহলে “Create code” বরাবর উপরে দেখুন “Query” ট্যাব আছে, এখান থেকে যেকোন SQL কোয়েরি রান করাতে পারেন। কোয়েরি লিখে রাইট বাটন ক্লিক এরপর “Run”. ইচ্ছে করলে কোয়েরি পরে ব্যবহারের জন্য সেভ করে রাখতে পারেন। রাইট বাটন ক্লিক করে কোয়েরিটি সেভ করার অপশন পাবেন। ঐ “Query” ট্যাবের পাশেই সাথে লাগা প্লাস চিহ্নটি যেটা দেখতে পাচ্ছেন সেটাতে ক্লিক করে করে অনেকগুলি কোয়েরি ট্যাব খুলতে পারে এবং প্রতিটিতে পৃথক পৃথক কোয়েরি চালাতে পারেন।

You May Also Like

About the Author: admin

Leave a Reply